Description
Raw Honey এবং Processing Honey কাকে বলে?
মৌমাছি যে মধু তৈরি করে মৌচাকে জমা করে, সেই মধুই হচ্ছে কাঁচা মধু বা ‘র হানি’। সেটা গ্রাম গঞ্জের হাতে চাক কাটা মধু হোক বা বাক্সের ভেতরে পোষা মৌমাছি দিয়ে উৎপাদিত মধু হোক। এই দুই প্রকার মৌমাছিই যদি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে, তাহলে এই দুই প্রকার মধুই ভালো মধু, খাঁটি মধু। বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ মধু প্রক্রিয়াজাত মধু বা Processing Honey। কাঁচা মধু এবং প্রক্রিয়াজাত মধু , এই দুই মধুর মধ্যে স্পষ্ট অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত করা হয় মধু গরম করার মাধ্যমে। আর মধু গরম করলে মধুর অনেক উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে ভালো মানের Raw Honey বা কাঁচা মধু খাওয়ার জন্য।
কালোজিরা ফুলের মধু কখন এবং কিভাবে সংগ্রহ করা হয়?
বাংলাদেশে কালোজিরা ফুলের মধু সংগ্রহের সময় সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে। মাঠে যখন প্রচুর পরিমাণে কালোজিরা ফুল ফুটতে শুরু করে, তখন মৌ চাষিরা তাদের মৌ বাক্স গুলো কালোজিরার বিশাল বড় ক্ষেতের পাশে স্থাপন করে। তারপর ফুল বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথেই মৌমাছিরা ওই এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ করে তাদের মৌ বাক্সে জমা রাখে। এভাবেই তৈরি হয় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু।
কালোজিরা ফুলের RAW মধু তে কেন ফেনা হয়?
কালোজিরা ফুলের প্রাকৃতিক Raw মধুতে অনেক সময় ঝাঁকি লাগলে ফেনা হতে দেখা যায় ও সম্পূর্ণ মধু সাদা রঙের হয়ে যেতে পারে। যা দেখে একজন সাধারণ মধু ক্রেতা, মধু খাঁটি হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু এই সন্দেহ টি একেবারেই সঠিক নয়। নিচে তার Scientific ব্যাখ্যা দেওয়া হলঃ
কালোজিরা ফুলের প্রাকৃতিক Raw মধুতে অ্যাক্টিভ এনজাইম, প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এবং মধু একটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় পদার্থ যাতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। আর গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ- কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত। এ জন্য কালোজিরা ফুলের প্রাকৃতিক Raw মধুতে যদি ময়েশ্চারের পরিমাণ বেশি থাকে, অর্থাৎ মধুর ঘনত্ব কম হয় বা মধু পাতলা হয় এবং মধু যদি ঝাঁকি লাগে, তখন মধুর মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে। এতে মধুর মধ্যে বায়ু বুদবুদ সৃষ্টি হয় এবং একই সাথে মধু ফেনা হতে দেখা যায় ও পাত্রের ভেতরে গ্যাস হতে পারে, যার ফলে প্ল্যাস্টিক এর বোতল কিছুটা ফুলে যেতে পারে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- ফেনা কম বা বেশি হবে ময়েশ্চারের পরিমাণ কম-বেশির কারনে। তবে মধু যদি খুবই ঘন হয় অর্থাৎ ময়েশ্চারের পরিমাণ কম থাকে তাহলে ফেনা হবে না। মধুতে ফেনা তৈরি হলে সেটাকে কিছুক্ষণ স্থিরভাবে রেখে দিলে আবার সেই ফেনা মধুতে পরিণত হবে। এতে মধুতে কোন ক্ষতি বা সমস্যা হবে না।
উপসংহার
যতটা সম্ভব খুব সহজে মুল বিষয়গুলো বোঝানর চেষ্টা করেছি। তারপরও একবার পড়ে বুঝতে অসুবিধা হলে দুই তিন বার পড়তে পারেন। তাহলে আরও ভালমতো বুজতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
আমি মনে করি, এই ব্লগ পোস্টে দেওয়া তথ্য গুলো যদি কোনো মধু ক্রেতা ভালোভাবে আয়াত্ত করতে পারে। তাহলে আর কোনো ভেজাল ব্যবসায়ী অথবা প্রতারক, তাকে কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু বলে ভেজাল বা কৃত্তিম মধু দিতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার জ্ঞানে যা ছিলো তাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। অবিজ্ঞ জনেরা যদি আমার এই কনটেন্ট এর মধ্যে কোনো ভুল খুঁজে পান তাহলে অবশ্যই জানাবেন দয়া করে। আপনার ছাত্র হতে পারলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করবো।
Reviews
There are no reviews yet.